শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

আজ বিশ্ব বাঘ দিবস: সুন্দরবনের বাঘ বাড়ানোর টেকসই ব্যবস্থার প্রবর্তন

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১

ডেস্ক রিপোর্টঃ প্রতিবছর ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতের ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন যার প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশে অবস্থিত। বাংলাদেশের ২০১৮ সালের জরিপ অনুসারে বাঘ আছে ১১৪টি। এ সংখ্যা ২০১৫ সালের বাঘশুমারি থেকে ৮টি বেশি। ভারতের ২০১৯ সালের জরিপ অনুসারে বাঘ আছে ৯৬টি। দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০১৭ সালে ছিল ৮৭ টি।

 

মধু সংগ্রহ, গোলপাতা সংগ্রহ, মাছ ধরা, বনের কাঠ ও লাকড়ি সংগ্রহ করার জন্য মানুষ অবাধে বনে প্রবেশ করছে। যার ফলে বাঘ যেমন অনিরাপদ বোধ করছে, পাশাপাশি বাঘ ও মানুষের সাথে সংঘর্ষও বাড়ছে।

সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং অভ্যন্তরীণ মানুষ সরিয়ে পুনর্বাসন করা উচিত।

সুন্দরবন ও লোকালয়ের মাঝে সোলার-প্যানেল স্থাপন করলে লোকালয়ে বাঘের প্রবেশ কমানো সম্ভব। সুন্দরবনের বাঘ ছবি ছোট ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং হরিণের ওপর নির্ভরশীল। অবৈধভাবে গাছ কাটার ফলে ঝোপ-ঝাড় কমে যাচ্ছে। ঝোপ-ঝাড় কমে গেলে হরিণ শিকার করা বাঘের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া ইদানিং নতুন করে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এর কারণে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে অস্বাভাবিকভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করছে।
পুনর্প্রবর্তন (Reintroduction) পদ্ধতিতে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি

জলবায়ু পরিবর্তনে পৃথিবীর ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বছর বছর ঘুর্ণিঝড়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে দেখা দিচ্ছে নানা রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাস। জলবায়ু পরিবর্তনে অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি- মানুষসহ পশুপাখির দেশের দক্ষিণাঞ্চলে টিকে থাকা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষি উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশ রক্ষায় সুন্দরবনের টেকসই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আর সুন্দরবন টেকসই করার জন্য বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির কোনও বিকল্প নেই। ১১৪টি বাঘের মধ্যে যদি ২০টি প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী বাঘও থাকে, তাদের থেকে প্রতিবছর কমপক্ষে ২০-৪০টি বাঘ বৃদ্ধি পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেইভাবে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এর কারণ হতে পারে বাঘের জিনগত বৈচিত্র্যের অভাব। অল্প সংখ্যক বাঘ থাকায় তাদের মধ্যে ইনবিড্রিং তথা নিকট সম্পর্কের মধ্যে প্রজনন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এতে মরণজিন প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং বাঘশাবক মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়। তাই বাঘ সংরক্ষণে মানুষ ও প্রাকৃতিক কারণগুলো ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জিনগত বিষয়টির দিকে নজর দিতে হবে। এজন্য বাঘের জিনগত বৈচিত্র্যও আনা প্রয়োজন। হেটারোজেনোসিটি বৃদ্ধি করতে পারলে বাঘের বংশ যেমন বৃদ্ধি পাবে সেই সঙ্গে বাঘের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও যেকোনও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর মাধ্যমে বাঘকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করবে। জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে পুর্নপ্রবর্তন (Reintroduction)। দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প নেওয়ার মাধ্যমে সুন্দরবনে অনেক সংখ্যক বাঘ ছাড়া সম্ভব। এজন্য নিচের ধাপ অনুযায়ী বাঘ পুনর্প্রবর্তন করে সুন্দরবনে নতুন করে বাঘ ছাড়া যায়।

বাঘ সংগ্রহ– বাংলাদেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও সাফারিপার্ক হতে ১০টি বাঘ সংগ্রহ করা যেতে পারে। এদের থেকে ক্যাপ্টিভ ব্রিডিং করিয়ে জন্ম নেওয়া শাবকগুলো ছয়মাস বয়স হলে সুন্দরবনের কাছে বড় পরিসরে লালনপালন এর ব্যবস্থা করা। পরবর্তীতে এদেরকে ধাপে ধাপে ট্রেনিং করিয়ে ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে হরিণ পর্যন্ত শিকার করার অভ্যাস শেখানো সম্ভব। এসব বাঘশাবক প্রাপ্তবয়স্ক হলে এদের থেকে নতুন জন্ম নেওয়া বাঘশাবক একই প্রক্রিয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক হলে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ছাড়া হবে।

ক্যামেরা ট্র্যাকিং- সুন্দরবনে ছাড়ার পূর্বে ক্যামেরা ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে সুন্দরবনের যে সব অংশে বাঘ নেই সে সব অংশ চিহ্নিত করা। যাতে অন্য বাঘের সাথে সংঘর্ষ না হয়। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে অবমুক্ত বাঘগুলোকে পর্যবেক্ষণে রাখা।

বাঘের খাদ্যের জোগান– উক্ত প্রকল্পের পাশে একইসাথে হরিণ এবং শুকরের খামার তৈরি করে এদের বংশবিস্তার করানো। সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী হরিণ এবং শুকরের একটি নির্দিষ্ট অংশ নতুন বাঘের এলাকায় খাদ্য হিসেবে প্রেরণ করা। এর মাধ্যমে বাঘের খাবারের সংকট দেখা দিবে না এবং বাঘ নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় প্রবেশ করবে না।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2018 News Smart
ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট MetroNews71