শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৩১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

১৯৯৬ আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় আসলেও মুক্তিযোদ্ধা কোটার কার্যকারিতা ছিলনা।

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০২২

বিশেষ প্রতিবেদক: 

পর্ব-২
১৯৭২ সালে ৫ সেপ্টেম্বর ২০% ছিল সাধারণ কোটা এবং ৮০% ছিল জেলা কোটা।

১৯৮৫ সালে কোটা সংস্কার করে ৪৫% সাধারণ কোটা এবং ৫৫% জেলা কোটা-(৩০% মুক্তিযোদ্ধা, ১০% মহিলা কোটা,৫% উপজাতি, ১০% জেলা কোটা) করা হয়।

১৯৯৬ সালে মুক্তিযুদ্ধের দল ক্ষমতায় আসলো,মুক্তিযোদ্ধা পরিবার স্বপ্ন দেখলো ভালো ভাবে বেঁচে থাকার।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের কল্যাণে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করলেন।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তিনি যখন ক্ষমতায় আসলেন ততদিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষ,এ কোটা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাজে আসলো না।যখন দেখলেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স শেষ তখন তিনি ১৯৯৭ সালে ১৭ মার্চ এ কোটা সন্তান পর্যন্ত বর্ধিত করলেন।

কিন্তু সরকার বার বার লক্ষ্য করছেন কোনো অবস্থাতেই বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের চাকরিতে নেওয়া হচ্ছে না,কারণ ৭৫-৯৬ এর মাঝে নিয়োগকৃত আমলা ব্যাপক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

১০/৯/১৯৯৮ সালে সরকার আরেকটি পরিপত্র জারি করে যথাযথ ভাবে কোটা অনুসরণ এবং লোক না পাওয়া গেলে খালি রাখা এবং খালী পদ গুলো পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে নিয়োগ দিতে আদেশ জারি করে।

ক্ষমতায় আওয়ামিলীগ কিন্তু আমলা কোটা নীতি অনুসরণ করছে না,৭জুন ১৯৯৯ সালে সরকার আবার আদেশ জারি করলেন যার বিষয় ছিল এমন আমরা দেখতে পাচ্ছি কোনো ভাবেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরণ করা হচ্ছে না তাই কোটা যথাযথ ভাবে পুরণ করার পুনরায় আদেশক্রমে অনুরোধ করা হলো এবং ১০/৯/৯৮ সালের আদেশ জারির পর মোট কতজন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে -এর মাঝে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কতজন তা সংস্থাপন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

কিন্তু মাঝের ২১ বছরের আমলারা সরকারের কথা মানে নি,৬ ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালে সরকার আবার আদেশ জারি করেন, এবং কড়া ভাষায় নির্দেশনা দেন,বলেন কোনো ভাবেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরণ না করে তাদের বাদ দিয়ে অন্যদের ঢুকানো হচ্ছে যা দুঃখজনক এবং সরকার এখানে স্পষ্ট বলেন ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংক্রান্ত সরকারি আদেশ প্রতিপালিত না হলে নিয়োগকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিন্তু আমলারা সরকারের কোনো কথায় মানেনি
৫ জুন ২০০০ সালে সরকার ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা যথাযথ ভাবে পালনের কঠোর আদেশ দেন এবং স্পষ্ট বলে দেন অন্য প্রার্থী দ্বারা পুরণ করা যাবে না।

সরকারের কথা শুনলে তো
২৮ জুন ২০০০ সালে সরকার আবার আদেশ জারি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা যথাযথ ভাবে অনুসরণ করার।

আমলারা সরকারি আদেশ মানে না
১৭ জুন ২০০২ সালে আবার আদেশ জারি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরণ করতে কোন রকম ব্যত্যয় যাতে না ঘটে এবং তা সকল বিভাগকে নির্দেশ দেন এবং কত % কোটা অনুসরণ করা হচ্ছে তা ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন চাওয়া হয় বিভাগ গুলোর কাছে।

ঠিক ১৯৯৬ সাল থেকে পরবর্তী ৫ বছরে মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরণ করার জন্য এমন ৮/১০ টার মতো পরিপত্র জারি করা হয় কিন্তু আমলারা তা মানেনি যা পরিপত্র গুলো স্পষ্ট প্রমাণ করে।

তাহলে এ ২৬ বছর আমরা কেমন সুবিধা পেলাম নিশ্চয় বুঝতে বাকী নাই।

লিখেছেন-
অহিদুল ইসলাম
সভাপতি
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম
কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2018 News Smart
ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট MetroNews71